একজিমা ও শুষ্ক, চুলকানো ত্বকের যত্ন: প্রতিদিনের সহজ গাইড
বারবার ফিরে আসা শুষ্ক, চুলকানো, খসখসে ছোপ বাংলাদেশে খুবই সাধারণ। ২০২৬ সালের একটি বাংলাদেশি গবেষণায় ত্বকের রোগে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস (একজিমার একটি সাধারণ ধরন)। নভেম্বর থেকে বাতাস শুষ্ক হলে অনেকের সমস্যা আরও বাড়ে।
সংক্ষেপে উত্তর: একজিমা-প্রবণ ত্বকের দরকার মৃদু ও নিয়মিত যত্ন: অল্প সময় কুসুম গরম পানিতে গোসল, এরপরই ভেজা ত্বকে সুগন্ধিমুক্ত ক্রিম, নরম সুতির কাপড়, আর কড়া সাবান বাদ। ভালো রুটিন ত্বক শান্ত রাখে ও সমস্যা কমায়, তবে একজিমা সারায় না। দরকার হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা যোগ করবেন।

গোসল: অল্প সময়, কুসুম গরম পানি
- ৫–১০ মিনিট, কুসুম গরম পানি। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (AAD) এমনটাই বলে; লম্বা সময় বা খুব গরম পানিতে গোসল ত্বক শুষ্ক করে। শীতে খুব গরম পানির লোভ হয়, কিন্তু তাতে চুলকানি বাড়ে।
- কড়া বার সাবান বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানের বদলে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যেমন Cetaphil Gentle Skin Cleanser বা CeraVe Hydrating Cleanser।
- নরম সুতির তোয়ালে দিয়ে আলতো চেপে মুছুন, ঘষবেন না।
কয়েক মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার
গোসলের পরপর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান, আর দিনে যখনই শুষ্ক লাগে তখনই আবার দিন। AAD পাতলা লোশনের বদলে সুগন্ধিমুক্ত ক্রিম বা মলম ব্যবহার করতে বলে, কারণ ক্রিম পানি বেশি ধরে রাখে।
| ধরন | কোথায় ভালো | আমাদের শপে উদাহরণ |
|---|---|---|
| ক্রিম (ঘন) | একজিমা-প্রবণ বা খুব শুষ্ক ত্বকে মুখ ও শরীর | CeraVe Moisturising Cream, Cetaphil Moisturizing Cream |
| লোশন (হালকা) | হালকা শুষ্কতায় শরীরের বড় অংশ, বা আর্দ্র মাসে | Aveeno Daily Moisturising Lotion |
| মলম (তৈলাক্ত) | রাতে ফাটা গোড়ালি, হাত ও ঠোঁট | সাধারণ পেট্রোলিয়াম জেলি |
প্যাকে “fragrance-free” লেখা আছে কিনা সবসময় দেখুন। AAD বলে, “unscented” মানে সুগন্ধিমুক্ত নয়, এতেও সুগন্ধি থাকতে পারে। নতুন যেকোনো প্রোডাক্ট এক সপ্তাহ হাতের ভেতরের দিকে লাগিয়ে পরীক্ষা করুন।

কাপড়, বিছানা ও কাপড় ধোয়া
- ঢিলেঢালা ১০০% সুতির কাপড় পরুন। উল ও খসখসে কাপড় ত্বক থেকে দূরে রাখুন; শীতের সোয়েটার বা শালের নিচে একটি সুতির স্তর রাখুন।
- নতুন কাপড় পরার আগে ধুয়ে নিন, খোঁচা লাগা ট্যাগ কেটে ফেলুন।
- সম্ভব হলে সুগন্ধি ও রংমুক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী
- শীত (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি): শুষ্ক বাতাস ত্বকের পানি টেনে নেয়। বারবার ময়েশ্চারাইজার দিন, রাতে ঘন ক্রিম।
- গরম ও বর্ষা: গরম ও ঘামে সমস্যা বাড়তে পারে। ঘাম ধুয়ে ফেলুন, সুতির কাপড় পরুন, দিনে হালকা ক্রিম ব্যবহার করুন।
- নিজের ট্রিগার খেয়াল করুন (কোনো সাবান, কাপড়, গরম, মানসিক চাপ) এবং এড়িয়ে চলুন।
কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- চুলকানিতে ঘুম হয় না, বা ভালো যত্নের পরও ছোপ ছড়িয়ে পড়ছে।
- ত্বক ফেটে যাচ্ছে, রস বের হচ্ছে, মামড়ি পড়ছে বা ইনফেকশনের মতো লাগছে।
- শিশু বা ছোট বাচ্চার একজিমা হলে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না, আর ফর্সাকারী বা অজানা মেশানো ক্রিম এড়িয়ে চলুন। কেন, পড়ুন আমাদের ফর্সাকারী ক্রিম নিয়ে সতর্কতা লেখায়। সাধারণ শীতের শুষ্কতার জন্য দেখুন শীতের স্কিনকেয়ার রুটিন।
Peoniara সব প্রোডাক্ট মালয়েশিয়ার Watsons, Guardian ও Caring Pharmacy-র মতো পরিচিত ফার্মেসি ও বিউটি চেইন থেকে কেনে, এবং পাঠানোর আগে সিল, ব্যাচ ও মেয়াদ যাচাই করে।
সাধারণ প্রশ্ন: Frequently asked questions
ময়েশ্চারাইজার কি একজিমা সারিয়ে দেয়?
না। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের সুরক্ষা স্তর মেরামতে সাহায্য করে ও সমস্যা কমাতে পারে, কিন্তু একজিমা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা। বাড়াবাড়ি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেবেন।
একজিমা থাকলে কি কম গোসল করা উচিত?
গোসল বাদ দেওয়ার দরকার নেই। অল্প সময় (৫–১০ মিনিট) কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন, মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন, আর পরপরই ময়েশ্চারাইজার দিন।
একজিমায় কি লোশন যথেষ্ট?
সাধারণত ক্রিম বা মলম ভালো কাজ করে, কারণ এগুলো ঘন ও পানি ধরে রাখে। আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীরের বড় অংশে হালকা লোশন চলতে পারে।
তথ্যসূত্র: AAD: Atopic dermatitis skin care; বাংলাদেশে ত্বকের রোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা (২০২৬)। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়।
Add a review
Your email address will not be published. Required fields are marked *